Admin Administrator


Total post :-: 635 Join date: 2009-05-03 Age: 26 Location: muscat
 | Subject: PM to entrepreneurs: Take care of workers...................... Thu Nov 05, 2009 10:18 am | |
| বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার প্রতিশ্র"তি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শ্রমিকদের কল্যাণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
দেশে তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী বাটেক্সপো-২০০৯ বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর সমাপণী দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সরকারের একার পক্ষে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান করা সম্ভব নয়। আপনারা এগিয়ে আসুন। নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করুন। বিনিয়োগ বাড়ান।"
"আমরা জানি, আমাদের বিদ্যুত ও গ্যাসের সমস্যা আছে। আমরা এ দুটিসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।"
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ'র সদস্যভুক্ত কারখানার মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিক কল্যাণে পদেক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, "শ্রমিকরা আপনাদের জন্য তাদের শ্রম দিচ্ছে। অর্থ উৎপাদনে আপনাদের সহায়তা দিচ্ছে। তাদের জন্যও আপনারা কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কারখানা ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। তারা (শ্রমিকরা) ভালো থাকলে আপনারাও ভালো থাকবেন।"
শিল্পপতিদের জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হাসিনা বলেন, "মুনাফা অর্জনই যেন মূল লক্ষ্য না হয়, জনগণের কল্যাণের দিকেও আপনাদের দৃষ্টি দিতে হবে।"
শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএ'র রেশন ব্যবস্থা চালুর প্রশংসা করেন হাসিনা। একইসঙ্গে সব কারখানার মালিকদের প্রতি তা চালুর আহ্বান জানান তিনি।
দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাত নিয়ে চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা কোনও অপশক্তির চক্রান্ত সফল হতে দেব না। গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।"
হাসিনা বলেন, পোশাক শিল্পে অস্থিরতার সৃষ্টিতে মদদদাতাদের খুঁজে বের করা হবে। তবে কারা এ চক্রান্ত করছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
শিল্পাঞ্চলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও শিল্প গোয়েন্দা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এক্ষেত্রে শিল্প মালিকদের সহায়তাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় প্রতি পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ জানিয়ে এ কর্মসূচিতেও বিজিএমইএর সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুই বছর পোশাক শিল্প মালিকরাও নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন হাসিনা। পোশাক রপ্তানিকারকদের নতুন বাজার খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু আমেরিকা ও ইউরোপ নয়, আমাদের নতুন বাজার খুঁজতে হবে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু পোশাক তৈরিই নয়, ডিজাইন ও ফ্যাশনে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে হবে।"
রপ্তানি প্রক্রিয়া নির্বিঘœ করতে চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষতা বাড়াতে আরও শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিহ্নিত ২৭০টি রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধও জানান হাসিনা।
২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাটেক্সপো'র উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পোশাক শিল্প মালিকদের স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে Ÿলেন, ""পোশাক শিল্প খাতে কর সবচেয়ে কম। এ সুবিধা না চাইলেও পারেন। আমরা দেশে রুগ্ন শিল্প রাখতে চাই না। হয় রুগ্ন শিল্প বেরিয়ে যাবে, না হয় নিজ যোগ্যতায় ঠিক হবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী তৈরি পোশাক খাতের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়াগুলো একে একে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ'র প্রথম সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী।
বাটেক্সপো দেশে পোশাক খাতে সবচেয়ে জাঁকালো প্রদর্শনী ও মেলা হিসেবে পরিচিত। বিকেএমইএ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নিট পোশাকের মেলা শেষ হতেই শুরু হলো বাটেক্সপো।
মেলা আগামী শনিবার পর্যন্ত চললেও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে শুক্রবার।
প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা অংশ নেবেন। এতে ভারত, পাকিস্তান, চীন এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৬২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। স্টল থাকছে ৮৬টি। |
|