Admin Administrator


Total post :-: 635 Join date: 2009-05-03 Age: 26 Location: muscat
 | Subject: Khaleda seeks stimulus fund for RMG sector...................... Fri Nov 06, 2009 8:55 pm | |
| বিশ্বমন্দা মোকাবেলায় ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পোশাক শিল্পখাতকেও দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ অ্যাপারেলস অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপজিশন (বাটেক্সপো)- ২০০৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "ঘোষিত প্যাকেজে পোশাক শিল্পকে বাদ দিয়ে কৃষি, বিদ্যুৎ ও রপ্তানিখাতকে নগদ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্যাকেজের সহায়তা এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি।''
বিশ্বমন্দার প্রভাব মোকাবিলায় সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশে গত এপ্রিলে ৩৪২৪ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। তবে গার্মেন্টস ও বস্ত্রখাতকে তার আওতার বাইরে রাখা হয়। এ নিয়ে দু'খাতের মালিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
গত ঈদুল ফিতরের আগে ব্যবসা খারাপ হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য মন্দা মোকাবেলায় চলতি অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা পাঁচ হাজার কোটি টাকা থেকে তিন হাজার কোটি টাকা দাবি করে বিজিএমইএ। পরে অর্থমন্ত্রী এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালে তারা দুঃখ প্রকাশ করে তাদের অবস্থান বদল করে।
তবে পোশাক শিল্প মালিকদের দাবিতে এ খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই টাস্কর্ফোসের আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন দেশের তৈরি পোশাককে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্যও সরকারের প্রতি আহবান জানান। এ জন্য তিনি পোশাক শিল্পের জন্য আলাদা শিল্প পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী গঠনের পরামর্শ দেন।
শুক্রবার দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী বাটেক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠান হলেও তিনের প্রদর্শনী শেষ হবে শনিবার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র আয়োজনে এ প্রদর্শনী হচ্ছে।
খালেদা জিয়া গামের্ন্টস শিল্পে সা¤প্রতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "এ শিল্পে একধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এই পোশাক শিল্পখাতে যাতে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করে তার দায়িত্ব সরকারেরই। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার মুখে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।"
পোশাক শিল্পে বর্তমান অস্থিরতার জন্য 'বাইরের হাত এবং প্রতিবেশি দেশগুলোর পক্ষ থেকে উস্কানি থাকাও বিচিত্র নয়' বলে মন্তব্য করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ক্ষমতাসীন দলের মদদপুষ্টদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে শিল্প ও ব্যবস্থা বাণিজ্য মারাত্মক হুমকির মুখে। এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে ঝুট ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি দলের ক্যাডারদের মধ্যকার সংঘাত পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটিয়েছে।"
খালেদা জিয়া বলেন, "উন্মুক্ত বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে তৈরি পোশাকের মূল্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ খরচ কমিয়ে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ সুনিশ্চিত করা।"
শিল্পমালিকদের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "কোনো শ্রম বিরোধ কিংবা অসন্তোষ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি কারখানার মালিকরা সম্ভব হলে প্রতিমাসে একবার শ্রমিকদের সঙ্গে বসে সব বিষয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করলে সৌহার্দ্যরে পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আমার ধারণা।''
খালেদা জিয়া তার দলের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, "আমার অনুরোধ, শ্রমিকদের প্রতি আরও বেশি বেশি কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহন করুন। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের বেতন পরিশোধ করার জন্য মালিকদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।"
তিনি এই শিল্পের উন্নয়নে নীতি সহায়তা দেওয়া, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে সক্রিয় করা ও 'বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জন্য সরকারের দাবি জানান।
রুগ্ন গার্মেন্টস শিল্পগুলো চালুর দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "এটা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত জরুরি।''
বিজিএমইএ'র সভাপতি আবদুস সালাম মুশের্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম, সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংসদ বরকত উল¬াহ বুলু বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ'র দ্বিতীয় সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান বাটেক্সপো-২০০৯ এর চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বাবলু।
এ সময় সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আর এ গনি, আবদুল মঈন খান, সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সেলিমা রহমান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাটেক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা অংশ নেন। এতে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৬২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। স্টল রয়েছে ৮৬টি। |
|