Admin Administrator


Total post :-: 635 Join date: 2009-05-03 Age: 26 Location: muscat
 | Subject: Committee coordinating spy agencies: PM................... Thu Nov 05, 2009 10:09 pm | |
| দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমম্বয়ের জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, "আমরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করেছি। আগে একেক গোয়েন্দা সংস্থা একেক রকম কাজ করতো। তাদের কাজের কোনো সমন্বয় ছিলো না।"
এর আগে এলডিপি নেতা অলি আহমদ তার বক্তব্যে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের কার্যক্রম 'সেনানিবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ' রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান।
এরই জবাবে সংসদ নেতা আরও বলেন, "১৫ দিন পর পর বসে কার কাছে (গোয়েন্দা সংস্থা) কী তথ্য আছে, তা নিচ্ছি। এর বেশি এখন আর কিছু বলবো না।"
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে তাদের কড়া সমালোচনা ছাড়াও কঠোর হাতে সন্ত্রাস দমন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে সহায়তার মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিরোধী দল গণতন্ত্রকে সমর্থন করছে না বলে আবারও অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, "তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার কোন ষড়যন্ত্র করছেন কিনা তাও দেখতে হবে। তারা এই ১০ মাসের সরকারকেও আলটিমেটাম দিয়েছে।"
তিনি বলেন, "যখন বিচারের জন্য বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, তখন বিরোধীদল সংসদে অনুপস্থিত থেকে কী করতে চাচ্ছে? কী সিগন্যাল দিচ্ছে? তারা সংসদে আসছে না, তারা গণতন্ত্রকে সাপোর্ট করছে না, তারা কাকে সাপোর্ট করছে?
বিএনপি ব্যাপকভাবে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি করেছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, "এর থেকে উত্তরণের জন্য আমরা দেশবাসীসহ সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি।
"বিএনপি জঙ্গীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করে গেছে, আমরা তা থেকে উত্তরণে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে কাউকে ছাড়া হবে না। আমার দলের হলেও ছাড়বো না। কখনো না।"
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে সাফ জানিয়ে তিনি বলেন, "তবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নয়, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাদের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করা হবে না।"
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এখন সবচেয়ে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, "আমি তো আগেই বলেছি- একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।"
সংসদ নেতা বলেন, "২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত চলছে। অনেক তথ্য বেরিয়ে আসছে।"
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, "সংসদ ভালভাবে চললেও দূর্ভাগ্য হলো, বিরোধী দল এ অধিবেশনে আসেনি। আমি বার বার চেষ্টা করলাম, স্পিকারও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিরোধী দল আসেনি।"
এ সময় স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন, "বিরোধী দলকে ফিরিয়ে আনতে এবার অলি আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা করবো।"
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তাহলে হতে পারে। অলি সাহেব তার পুরনো সম্পর্কটা ঝালাই করে নিতে পারবেন। তাহলে এ বিষয়ে আমি আর কিছু বললাম না।"
এ দিনই সংসদের চলতি অধিবেশন নি®প্রাণ ছিলো উল্লেখ করে সাবেক বিএনপি নেতা ও বর্তমানে এলডিপি নেতা অলি আহমদ বলেন, "বিরোধীদল ছাড়া সংসদে কর্মচাঞ্চল্য আসে না। তাই এই সংসদ ছিলো নি®প্রাণ।"
প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উল্লে¬খ করে বলেন, "গত সাত বছরের জঞ্জালতো এত তাড়াতাড়ি শেষ করা করা যায় না। লোকবল কম থাকায় সমস্যা হলেও তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
"সরকারের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের পেটে যাতে ভাত থাকে, সেটা দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে সবার আগে। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে সব উদ্যোগ নিয়েছে।"
বর্তমান সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমিয়ে আনার পাশাপাশি সার ও ডিজেলের দাম কমিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, "বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলো। এ থেকে তাদের বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
সংসদ নেতা তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, "বিরোধীদলীয় নেতা এখানে নেই। আমি কাকে ধন্যবাদ দেবো? আমি চেয়ার ও সংবিধানকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আশাকরি, ওনারা ফিরে আসবেন, যেনো ধন্যবাদ দিতে পারি।"
|
|