Admin Administrator


Total post :-: 635 Join date: 2009-05-03 Age: 26 Location: muscat
 | Subject: American Muslims appear terrified.................. Fri Nov 06, 2009 9:55 pm | |
| টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ১২ সেনা হত্যাকারী বন্দুকধারী একজন মুসলমান- এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় হতবিহ্বল হওয়ার পাশাপাশি তাদের মাঝে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।
অনেক আমেরিকান মুসলমান উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। যদিও তাদের অধিকাংশই সর্বান্তঃকরণে এই ঘৃণ্য, কাপুরুষোচিত ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর মনোচিকিৎসক মেজর নিদাল মালিক হাসান বৃহস্পতিবার গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা করেছে। দুটি হ্যান্ডগানের সাহায্যে তার নির্বিচার গুলিতে আরও ৩১ জন আহত হয়।
মেজর হাসান বিদেশে যুদ্ধ থেকে ফেরত আহত সেনাদের চিকিৎসা দিতেন এবং নিজেও বিদেশে মোতায়েন হতে যাচ্ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সেনাঘাঁটিতে এটাই সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড। গত মে মাসে বাগদাদের একটি ঘাঁটিতে এক মার্কিন সৈন্য গুলি চালিয়ে সতীর্থ পাঁচ সেনাকে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় পুলিশের গুলিতে হাসান আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ গ্রুপ কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এর একজন মুখপাত্র টেক্সাসের সেনাঘাঁটিতে এই হত্যাকাণ্ডকে 'কাপুরুষোচিত' কাজ বলে অভিহিত করে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীকে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
"কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শ দিয়ে এই নৃশংস ও নির্বিচার সন্ত্রাসকে জায়েজ করা যাবে না। এটি একটি ঘৃণ্য হামলা। কেননা, এ হামলার লক্ষ্য স্বেচ্ছাসেবী সেনারা, যারা আমাদের জাতিকে রক্ষা করেন।
আমেরিকান মুসলমানরাও দেশবাসীর সঙ্গে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করছে এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠান স্থগিত রেখে এই ঘটনার ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করে।
তাৎক্ষণিভাবে ঘটনার খবর পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ঘটনাকে 'সহিংসতার ভয়ংকর বিস্ফোরণ' বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, "নিহত নারী ও পুরুষরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাতিকে সেবা দিতে নিঃস্বার্থ ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।"
"আর ভয়ংকর ব্যাপার হল এই মানুষগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে একটি সেনাঘাঁটিতে এই নৃশংসতার স্বীকার হলেন," বলেন ওবামা।
এর আগে হত্যাকারী মেজর নিদাল মালিক হাসানকে ঘটনার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা যে খবর দিয়েছেন তা নাকচ করে দিয়েছেন ফোর্ট হুড ঘাঁটির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনালের রবার্ট কোন।
ভোররাতে তিনি জানান, মেজর হাসান তাদের হেফাজতে আছেন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এটা এখন নিশ্চিত যে এ ধরনের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালাতে কেন তিনি উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সে ব্যাপারে মেজর হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমের খবর বলা হয়েছে, মেজর হাসানকে খুব শিগগিরই ইরাক বা আফগানিস্থানে পাঠানোর কথা ছিল। এবং এ নিয়ে তিনি নাখোশ ছিলেন।
খবরে বলা হয়, মেজর হাসানের বাবা-মা ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের কাছাকাছি একটি ছোট্ট শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে হাসানের জন্ম। তিনি হাইস্কুলের পড়াশুনা শেষ করে বাবা-মার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় হাসান কলেজে পড়াশুনা করেন। পরে তিনি মেডিকেল স্কুলে মনোচিকিৎসায় প্রশিক্ষণ নেন।
কয়েক বছর আগে মুসলিম হিসেবে সহযোদ্ধাদের কাছে নাজেহাল হওয়ায় ৩৯ বছর বয়সী মেজর হাসান সেনাবাহিনীর চাকরি করবেন কিনা সে নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। তিনি ভার্জিনিয়ায় আত্মীয়স্বজনদের নাজেহাল হওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছিলেন। অতিসম্প্রতি ইরাক বা আফগানিস্তানে তাকে পাঠানোর বিষয়ে গভীর উদ্বেগের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
হাসানের জ্ঞাতি ভাই নাদের হাসান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড আর্মি মেডিকেল সেন্টার এবং ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে ফিরে আসা মনোবৈকল্যের শিকার অনেক সৈন্যের চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি (মেজর হাসান) যুদ্ধের বিভিষীকাময় বাস্তবতা অনুধাবন করেছেন।
নাদের বলেন, "যুদ্ধে পাঠানো হতে পারে-এই ভাবনা তাকে (মেজর হাসান) দমিয়ে দিত। কারণ যুদ্ধ ফেরত সেনাদের কাছে তিনি প্রতিনিয়ত শুনতেন কী ধরনের বিভিষীকার মুখোমুখি তাদের হতে হয়েছে।"
তবে নাদের বলেছেন, কিছুদিন আগেও ভার্জিনিয়ায় ফোনে হাসানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধে পাঠানোর বিষয়ে হাসান তাকে কিছু বলেননি।
বৃহস্পতিবার দুপুরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা টেলিভিশনে শোনার পর হাসানের পরিবার ভেঙে পড়ে।
নাদের জানান, যুদ্ধে যাওয়া এড়াতে হাসান সম্ভব সব চেষ্টাই করছিলেন। সেনা নিয়ম মেনেই তিনি এমন কিছু করতে চাচ্ছিলেন যাতে তাকে যুদ্ধে যেতে না হয়।
মুসলিম বলে সহকর্মী সেনাদের কাছে নাজেহাল হওয়ার পর হাসান চুক্তি শেষ হওয়ার আগে সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়তে পরামর্শের জন্য আইনজীবীর কাছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আইনজীবী জানিয়েছিলেন হাসান যদি তার শিক্ষার ব্যয় সেনাবাহিনীকে ফেরতও দেয় তাহলেও তাকে চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে থাকতে হবে।
নাদের বলেন, "আমার ধারনা হাসান চাকরি ছাড়ার চেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়েছিলেন। তিনি সময় পার করছিলেন।"
তিনি জানান, হাসানের বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ভার্জিনিয়ায় তাদের রেস্টুরেন্ট ও অন্য ব্যবসা আছে। যদিও হাসানের বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন।
তবে তারা জর্ডানের নাগরিক ছিলেন বলে যে সংবাদ বের হয়েছে তা তিনি নিশ্চত করেননি। ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের কাছে একটি ছোট শহর থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বলে নাদের জানান।
সেনাবাহিনীর নথি থেকে জানা যায়, মেজর হাসান ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে মেরিল্যান্ডের ইউনিফর্ম সার্ভিসেস ইউনিভার্সিটি অফ দি হেলথ সায়েন্স থেকে মেডিকেল ডিগ্রি পান।
এ বছরের শুরুতে মেজর হাসান ফোর্ট হুডের ডারনেল আর্মি মেডিকেল সেন্টারে যোগ দেন। এর আগে তিনি ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নাদের আরও জানান, মেজর হাসান ছিলেন অবিবাহিত। তার এক ভাই ভার্জিনিয়া এবং অন্যজন থাকেন জেরুজালেমে। সামগ্রিকভাবে এই পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে আইন, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন পেশায় উন্নতি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, কমপক্ষে ছয়মাস আগে ইন্টারনেটে পোস্ট করা একটি বার্তা থেকে মেজর হাসান তাদের নজরে আসেন। ওই বার্তায় আত্মঘাতী বোমা হামলাসহ আরও কিছু হুমকির কথা ছিলো।
তবে উত্তর ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারী আইনজীবী নাদের (৪০) তার ভাই হাসানকে মর্যাদাবান ও কঠোর পরিশ্রমী একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। হাসান তার বাবা-মা এবং চাকরির প্রতি আন্তরিক ছিলেন বলেও নাদের জানান।
তিনি জানান, হাসান বরাবরই ধর্মভীরু ছিলেন। ১৯৯৮ এবং ২০০১ সালে বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তিনি ধর্ম পালনে আরো আন্তরিক হয়ে ওঠেন। তবে কখনই তিনি মার্কিন বিরোধী কিংবা মৌলবাদী মত প্রকাশ করেননি।
নাদের বলেন, "বাবা-মা চাননি হাসান সেনাবাহিনীতে যাক। কিন্তু হাসান বলতেন- না, আমি এখানে জন্ম নিয়েছি এবং বড় হয়েছি। তাই দেশের প্রতি কর্তব্য পালনে আমি সেনাবাহিনীতে যাচ্ছি।" |
|