Admin Administrator


Total post :-: 635 Join date: 2009-05-03 Age: 26 Location: muscat
 | Subject: AL vows 1972 constitution return................... Wed Nov 04, 2009 9:34 pm | |
| '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
বুধবার সংবিধান দিবস এ সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইনশাল্লাহ, আমরা '৭২-এর সংবিধান এখানে (সংসদে) পাস করবোই। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে '৭২-এর সংবিধান নিয়ে চলতে চাই।"
তবে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রেখেই '৭২-এর সংবিধান কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকার দলীয় সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। তারপর বিভিন্ন সময় সংবিধানে ১৪ বার সংশোধনী আনা হয়। এরমধ্যে সামরিক সরকারও কয়েকটি সংশোধনী এনে তাদের কাজের বৈধতা দেয়।
'৭২ এর সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা মূল ভিত্তির অন্যতম থাকলেও সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সময়ে এতে এক দফা পরিবর্তন আনা হয়। পরে এইচ এম এরশাদের সময় আবার পরিবর্তন এনে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করা হয়।
সাজেদা চৌধুরী বলেন, "জিয়াউর রহমান গোলাম আজমকে নিয়ে আসলেন। আর, তার স্ত্রী গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দিলেন। এই স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী বানালেন, লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা দিলেন। তাদের বিচার করতেই হবে। কে দিলো তাদের এই অধিকার ?"
অনির্ধারিত এ আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য রাখেন শেখ সেলিম। তারপর একে একে বক্তব্য রাখেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ইকবালুর রহিম, ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, আব্দুল মতিন খসরু, লুৎফুল হাই সাচ্চু, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, আমির হোসেন আমু ও সবশেষে সাজেদা চৌধুরী।
শেখ সেলিম বলেন, "ধর্মের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রেখে '৭২ এর সংবিধান কার্যকর করতে হবে। আমরা '৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করবো। সংবিধান জনগণের জন্য।"
তিনি আরও বলেন, "জিয়াউর রহমান সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে অনুমোদন দেন। স্বাধীনতাবিরোধী গোলাম আজম, নিজামীদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিলেন তিনি। কেউ যেনো আর সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করতে না পারে, সে জন্য আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।"
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, "যদি ফাদার অফ কন্সটিটিউশন বলতে হয়, তাহলে আমরা যারা গণপরিষদে ছিলাম. তারাই ফাদার অফ কন্সটিটিউশন। একেক জন সেনাপতি আসবেন, আর এসেই সংবিধান বদলে ফেলবেন।
"এ রকম নজির কোথাও নেই। এর একটি শব্দও বদলানোর অধিকার কারও নেই। কোথা থেকে জিয়াউর রহমান সাহেব আসলেন। আর, এসেই বন্দুক ধরে সংবিধান বদলে ফেললেন।"
সামরিক শাসকদের রাজনীতিবিদ আর বিচারপতিরা বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, "সব সেনাপতির সঙ্গে একজন করে রাষ্ট্রপতি আর বিচারপতি থাকেন। আর আমরা যেন সব ভগ্নিপতি।"
সুরঞ্জিত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "এ সংসদেই ৭২'র সংবিধান ফিরে আসবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়েই এ সংবিধান ফিরে আসবে। কোনো গণভোট লাগবে না। সব অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
"বাংলাদেশে একটাই অবস্থান থাকবে, অসা¤প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতি। এটা মেনেই ৭২'র সংবিধান বহাল রেখেই খালেদা জিয়া আর নিজামীদের রাজনীতি করতে হবে।"
২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। সরকারের (তৎকালীন বিএনপি সরকার) আবেদনে আপিল বিভাগ ওই রায় স্থগিত করে।
হাইকোর্টের রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমানের শাসনকে বেআইনি ঘোষণা করে বলা হয়, সামরিক আইন সামগ্রিকভাবে অবৈধ ও অসাংবিধানিক এবং সামরিক আইনের অধীনে করা সব কার্যক্রম, আইন ও বিধিও অবৈধ।
বিষয়টি বর্তমানে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলে '৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে বাধা থাকবে না।
সংসদে আমির হোসেন আমু বলেন, "সা¤প্রদায়িকতাবহির্ভূত একটি সংবিধান বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন। যারা এই দেশে স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, তারা নানা সময় ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। এই ষড়যন্ত্র এখনো চলছে।
"আমরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমকে জনগণের অধিকার হরণের কাজে ব্যবহার করি না। ধর্ম কোনো রাজনীতির ভিত্তি হতে পারে না। সা¤প্রদায়িকতার ধোঁয়া তুলে ষড়যন্ত্র চলছে। ৭২'র সংবিধানের বিরোধিতা করতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কখনোই দেবে না।"
ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, "স্বাধীনতাকে নিয়ে অনেক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। স্বাধীনতার পর অনেকের বক্তব্য এই সংসদে শুনেছি। ১৯৭৯ সালে যখন ইনডেমনিটি জারি করা হয়েছিলো, তখন মাননীয় ডেপুটি স্পিকার আপনি আর আমি অনেক চিৎকার করেছিলাম। কিন্তু, আমাদের কথা কেউ শোনেননি।" |
|